বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা এলআরআই হলো মহাখালী, ঢাকায় অবস্থিত।
গবাদিপশু, হাঁস ও মুরগির রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ একটি দেশের প্রাণিসম্পদ উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত।পশুর রোগব্যাধি নিয়ন্ত্রণের এক কার্যকর পদ্ধতি হলো টিকা প্রদান করা।প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধীনে উক্ত প্রতিষ্ঠান ঢাকার মহাখালী এবং কুমিল্লার আহারী থেকে গবাদি পশুর আট প্রকারের এবং পোল্ট্রি বা পাখির নয় প্রকারের মিলিয়ে মোট সতেরো ধরনের টিকা উৎপাদন করা হয়।আর এই উৎপাদিত টিকা এলআরআই হতে কুল ভ্যানের মাধ্যমে সরাসরি বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।তাছাড়া বিভিন্ন জেলার খামারিগণ তাদের চাহিদা মাফিকা টিকা এখান থেকে সরাসরি সংগ্রহ করতে পারেন।তবে উভয় ক্ষেত্রে ট্রেজারি চালান বা নগদ টাকা দিয়ে সরকার নির্ধারিত মূল্য পরিশোধ করতে হবে।
ওটিআই অথবা অফিসার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট অবস্থিত ঢাকার সাভারে।
প্রাণিসম্পদ বিভাগীয় কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন মানসম্মত প্রশিক্ষণ।সেই লক্ষ্যে ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৫ খ্রিঃ অর্থবছরে অফিসার্স প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং ১৯৮৬ সালের আগষ্টে প্রথম এর কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, এটা বর্তমানে জাতীয় প্রশিক্ষণ কাউন্সিলের গর্বিত সদস্য।উক্ত কেন্দ্রটি রাজধানী ঢাকা হতে ২৮ কি.মি. দূরে ঢাকা ও আরিচা মহাসহকের পূর্ব দিকে ১০ একর জমির উপরে এর অবস্থান।প্রতিষ্ঠানের পূর্বে সরকারি মুরগী ও ছাগল উন্নয়ন খামার, পশ্চিমে আরিচা মহাসড়ক, বাংলাদেশ লোক প্রশাস৭ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, উত্তরে সাভার কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামার এবং দক্ষিণে মিলিটারী ডেইরি খামার ও মৎস্য একাডেমি অবস্থিত।
এর পটভূমিঃ
বাংলাদেশ উন্নয়নশীলে অগ্রগামী ও কৃষিনির্ভর একটি দেশ।এদেশের অর্থনীতিতে প্রাণিসম্পদের ভূমিকা অপরিসীম।ডিম, দুধ বা মাংস প্রভৃতি আমিষ জাতীয় খাদ্য ও শস্য উৎপাদনে প্রাণিবর্জ্যের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য।বর্তমানে জনশক্তির প্রায় ২০ শতাংশ প্রত্যক্ষভাবে এবং ৫০ শতাংশ পরোক্ষভাবে পশুপাখি পালনের উপর নির্ভরশীল।ইতিমধ্যে দেশে লক্ষাধিক পোল্ট্রি ফার্ম ও গবাদিপশুর খামার স্থাপিত হয়েছে।সংশ্লিষ্ট খামারসমূহের উন্নয়ন এবং এগুলোর উৎপাদন অব্যাহত রাখার জন্য দক্ষ জনশক্তি ও অভিজ্ঞ পরামর্শক প্রয়োজন।
কোনো একটি দেশের উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধি তার জনসংখ্যার সুষ্ঠু ও সর্বোত্তম ব্যবহারের উপরে নির্ভরশীল।বাংলাদেশের বিপুল মানুষ এর সৎ ব্যবহার নিশ্চিত করে এদেরকে জনসম্পদে রূপান্তরিত করার জন্য প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই।দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য এর পরিধি যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি গুরুত্ব এবং প্রয়োজনীয়তাও তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে।প্রশিক্ষণ এমন একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কর্মকর্তাদের পেশাগত জ্ঞানের উৎকর্ষতা সাধন ও দক্ষতা বৃদ্ধি হয় এবং তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণের ইতিবাচক পরিবর্তন সাধিত হয়ে থাকে।এর মাধ্যমেই যেকোনো কর্মকর্তা তার উপরে অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্যসমূহ সুষ্ঠু এবং সাফল্যজনকভাবে সম্পাদনে সক্ষম হন।