-
প্রশ্ন-বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহারে জনবসতি বিস্তারের প্রভাব কি?
উত্তর- বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহারে জনবসতি বিস্তারের প্রভাব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। এদেশে আয়তনের তুলনায় জনসংখ্যা অনেক বেশি। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে জনবসতিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদেশে প্রয়োজনের তুলনায় চাষযোগ্য জমির পরিমাণ কম। দেশের জনসংখ্যা ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষি জমির ওপর অব্যাহত চাপ পড়ছে। যার ফলে গ্রাম ও শহরে বাসস্থান সমস্যা দেখা দিচ্ছে। আবার উত্তরাধিকারদের মধ্যে বণ্টিত হতে হতে খণ্ড-বিখণ্ড ছোট জমিগুলোতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা যাচ্ছে না। ফলে ফলন কম হচ্ছে।
-
প্রশ্ন- ভূ-প্রকৃতির গঠন কীভাবে জনসংখ্যার সঙ্গে সম্পর্কিত?
উত্তর- ভূ-প্রকৃতির গঠনের সঙ্গে জনসংখ্যার ঘনত্বের একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে।যেসব অঞ্চলে মানুষের জীবনযাত্রা সহজ, সাধারণত সেসব স্থানে মানুষের জনবসতি বেশি দেখা যায়। তাই ভূ-প্রকৃতির গঠন বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যেসব স্থান মানুষের বসবাসের জন্য কষ্টসাধ্য, সেসব স্থানে জনবসতির ঘণত্ব কম। যেমন: বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি বা সুন্দরবন অঞ্চলে জীবনযাপনের উপকরণগুলো সহজে পাওয়া যায় না বলে এসব স্থানে জনবসতি কম।
-
প্রশ্ন- ভূমিকম্পের যেকোনো একটি কারণ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর- ভূমিকম্পের অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে ভূ-অভ্যন্তরে বা ভূত্বকের নিচে ম্যাগমার সঞ্চারণ অথবা চ্যুতিরেখা বরাবর চাপমুক্ত হওয়া।ভূমিকম্পের কারণ অনুসন্ধানকালে বিজ্ঞানীরা লক্ষ করেন যে, পৃথিবীর বিশেষ কিছু এলাকায় ভূমিকম্প বেশি হয়। এ সমস্ত এলাকায় নবীন পর্বতমালা অবস্থিত।
-
প্রশ্ন- জলবায়ুর পরিবর্তন বাংলাদেশের ওপর কীরূপ প্রভাব ফেলেছে?
উত্তর- জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গড় তাপমাত্রা দেশের সর্বত্র বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্ষা মৌসুমে অধিক বৃষ্টিপাত হচ্ছে আবার বর্ষাকাল দেরিতে আসছে। স্বল্প সময়ে অধিক বৃষ্টিপাত, ভারি বর্ষণের ফলে ভূমিধস, বন্যা ও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। সমুদ্রের উচ্চতা বেড়ে গেছে। হিরণ পয়েন্ট, চর চংগা ও কক্সবাজারের উচ্চতা প্রতিবছর গড়ে ৪ কি.মি. হতে ৬ কি.মি. পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
-
প্রশ্ন- ভারতের জলবায়ু ব্যাখ্যা করো।
উত্তর- বিশাল আয়তনের দেশ হওয়ায় ভারতের জলবায়ু বিচিত্র এবং অক্ষাংশ, সমুদ্র দূরত্ব, বায়ুপ্রবাহ প্রভৃতি বিভিন্নতার দরুন এ জলবায়ুও বিভিন্ন প্রকার। ভারত মৌসুমি অঞ্চলে অবস্থিত। ফলে এ দেশের উষ্ণতা, বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা ইত্যাদি মৌসুমি বায়ুপ্রবাহের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। উষ্ণতা ও বৃষ্টিপাতের পার্থক্যের ওপর নির্ভর করে ভারতের জলবায়ুকে চারটি ঋতুতে বিভক্ত করা হয়। যথা- শীতকাল, গ্রীষ্মকাল, বর্ষাকাল এবং শরৎ ও হেমন্তকাল।
-
প্রশ্ন- বাংলাদেশের বর্ষাকালীন জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য লিখ।
উত্তর- বাংলাদেশে জুন হতে অক্টোবর মাস পর্যন্ত বর্ষাকাল। এ সময় সূর্য বাংলাদেশের ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। আবহাওয়া সর্বদা উষ্ণ থাকে। এ সময়কার গড় উষ্ণতা প্রায় ২৭ ডিগ্রি সে.। বর্ষাকালের মধ্যে জুন ও 5 সেপ্টেম্বর মাসে সবচেয়ে বেশি গরম পড়ে।
-
প্রশ্ন- বিশ্বে ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলগুলোর যেকোনো একটির পরিচয় দাও।
উত্তর- ভূমিকম্পের প্রকোপ পৃথিবীর সর্বত্র সমান নয়। বিশ্বে ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলগুলোর মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল অন্যতম। প্রশান্ত মহাসাগরের বহিঃসীমানা বরাবর সবচেয়ে বেশি ভূমিকম্প হয়। এ অংশের জাপান, ফিলিপাইন, চিলি, অ্যালিসিয়ান দ্বীপপুঞ্জ ও আলাস্কা সবচেয়ে বেশি ভূমিকম্প প্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত।
-
প্রশ্ন- ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় ইটের দেয়ালের ভবনের ক্ষেত্রে করণীয় কী? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর- ইটের তৈরি দেয়াল করলে ৪ তলার উপরে ভবন না করা, ভবন দোতালার বেশি হলে প্রতিটি কোনায় ইটের মাঝখানে খাড়া ইস্পাতের রড ঢুকাতে হবে। প্রত্যেক জানালা ও দরজার পাশ দিয়ে খাড়া রড ঢোকাতে হবে। দরজা ও জানালা ঘরের কোনায় না হওয়াই ভালো। এই সতর্কতা অবলম্বন করলে ইটের দেয়ালের ভবনের প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণে বেড়ে যাবে। ভূমিকম্পের সময় দেয়ালে ফাটল ধরলেও ধসে পড়ার আশঙ্কা কমে যাবে।