প্রশ্ন- প্রতি বছরের মতো এ বছরও ঢাকার সেন্ট যোসেফ স্কুলে বিজ্ঞান মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এ বছর মেলার বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে পেরিস্কোপের মাধ্যমে মহাকাশ দেখার ব্যবস্থা রয়েছে। ওই স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিশাদ পেরিস্কোপের মাধ্যমে মহাকাশের এমন একটি গ্রহ দেখতে পেল যার চারদিকে তিনটি উজ্জল আলোর বলয় রয়েছে।
-
ক. ঢাকার প্রতিপাদ স্থান কোথায়?
-
খ. কোনো স্থানে মধ্যাহ্ন হলে তার ১০ পূর্বের স্থানের সময় কত?
-
গ. নিশাদ পেরিস্কোপে কোন গ্রহটি দেখেছে? ব্যাখ্যা কর।
-
ঘ. উক্ত গ্রহে কি প্রাণী ও উদ্ভিদের বাসযোগ্য পরিবেশ রয়েছে? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।
প্রশ্নের উত্তর
ক) দক্ষিণ আমেরিকার অন্তর্গত চিলির নিকট প্রশান্ত মহাসাগরে ঢাকার প্রতিপাদ স্থান অবস্থিত।
খ) কোনো স্থানে মধ্যাহ্ন হলে তার ১০ পূর্বের স্থানে সময় হবে বেলা ১২টা ৪ মিনিট।পৃথিবী গোলাকার এবং নিজ অক্ষ বা মেরুরেখায় পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে আবর্তন করছে। ফলে ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন স্থান ভিন্ন ভিন্ন সময়ে সূর্যের সামনে উপস্থিত হচ্ছে। যে সময়ে কোনো স্থানের মধ্যরেখা সূর্যের ঠিক সামনে আসে, তখন ঐ স্থানে দুপুর হয় অর্থাৎ ১২টা বাজে। সাধারণত পৃথিবীর আবর্তনের গতি পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে হওয়ায় সকল পূর্বদিকের স্থানে আগে সূর্যোদয় হয়। এ কারণে কোনো স্থানের পূর্বদিকে ঐ স্থানের চেয়ে সময় বেশি হবে এবং পশ্চিম দিকে কম হবে। প্রত্যেক ১০ কে ৪ মিনিট হিসাব করা হয়। এ কারণেই কোনো স্থানের বেলা ১টার সময় ঐ স্থানের ১০ পূর্ব দিকের স্থানের সময় বেলা ১২টা ৪ মিনিট হয়।
গ) উদ্দীপকের রিশাদ পেরিস্কোপে শনি গ্রহটি দেখতে পেয়েছে।শনি সৌরজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহ। সূর্য থেকে শনির দূরত্ব প্রায় ১৪৩ কিলোমিটার। শনি ২৯ বছর ৫ মাসে সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করে এবং ১০ ঘণ্টা ৪০ মিনিটে নিজ অক্ষে একবার আবর্তন করে।শনি পৃথিবী থেকে প্রায় ৯ গুণ বড় এবং খালি চোখে এটি দেখা যায়। শনির বায়ুমণ্ডলে হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের মিশ্রণ, মিথেন ও অ্যামোনিয়া গ্যাস রয়েছে। এছাড়া তিনটি উজ্জ্বল বলয় শনিকে বেষ্টন করে আছে। শনির মোট ২২টি উপগ্রহ রয়েছে। এর মধ্যে ক্যাপিটাস, টেসিস, মহুয়া, টাইটান প্রধান উপগ্রহ।
ঘ) না, শনি গ্রহে প্রাণী ও উদ্ভিদের বাসযোগ্য পরিবেশ নেই। নিচে উত্তরের পক্ষে যুক্তি দেওয়া হলো- আমরা জানি, সৌরজগতের ৮টি গ্রহের মধ্যে একমাত্র পৃথিবীই জীবজন্তু ও উদ্ভিদের জীবনধারণের জন্যে আদর্শ গ্রহ। পৃথিবীতেই একমাত্র প্রাণী ও উদ্ভিদ জগতের সুষ্ঠুভাবে বসবাসের পরিবেশ রয়েছে।শনি গ্রহের বায়ুমণ্ডলে কেবল হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের মিশ্রণ, মিথেন ও অ্যামোনিয়া গ্যাস রয়েছে। শুধু এসব গ্যাসের উপস্থিতিতে প্রাণ ধারণ করা সম্ভব নয়। প্রাণ ধারণ করার জন্যে যে বায়ুমণ্ডলের উপস্থিতি প্রয়োজন শনি গ্রহে তা না থাকায় সেখানে উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবনধারণ অসম্ভব।
প্রশ্ন- সৌরভ ন্যাশনাল জিওগ্রাফি চ্যানেলে 'The Mysterous Space' নামক একটি অনুষ্ঠানের প্রচারিত একটি পর্ব থেকে জানতে পারল, সৌরজগতের প্রাণকেন্দ্র হলো সূর্য। সূর্য থেকে সামান্য তাপ ও আলো দ্বারাই একটিমাত্র গ্রহে জীবজন্তু ও উদ্ভিদের জীবনধারণ ঘটছে। সূর্যের এ তাপ ও আলো কাজে লাগিয়েই এ গ্রহটি দিন দিন উন্নতি লাভ করছে।
-
ক. বনভূমি কী?
-
খ. ভূমিকম্প (Earthquake) কি?
-
গ. উদ্দীপকের সৌরভ সৌরজগতের যে গ্রহ সম্পর্কে ধারণা পেয়েছে- সেটির ব্যাখ্যা দাও।
-
ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত সূর্যের যে শক্তি সম্পদের কথা বলা হয়েছে- তা বিশ্লেষণ কর।
প্রশ্নের উত্তর-
ক) বৃক্ষরাজি যে ভূমিতে সমারোহ ঘটায় তাকে বনভূমি বলা হয়।
গ) উদ্দীপকের সৌরভ সৌরজগতের যে গ্রহটি সম্পর্কে ধারণা পেয়েছে তা হলো পৃথিবী (Earth)। নিচে এর ব্যাখ্যা দেওয়া হলো- পৃথিবী সূর্যের তৃতীয় নিকটতম গ্রহ। পৃথিবীর আয়তন ৫১০, ১০০, ৪২২ বর্গকিলোমিটার। পূর্ব-পশ্চিমে এর ব্যাস ১২,৭৫২ কিলোমিটার এবং উত্তর-দক্ষিণে ১২,৭০৯ কিলোমিটার। সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব ১৫ কোটি কিলোমিটার। পৃথিবী ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করে। এ গ্রহে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন রয়েছে। পৃথিবীপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা ১৩.৯০° সেলসিয়াস। ভূত্বকে প্রয়োজনীয় পানি রয়েছে। গ্রহগুলোর মধ্যে একমাত্র পৃথিবীই জীবজন্তু ও উদ্ভিদের জীবনধারণের জন্য আদর্শ গ্রহ। চন্দ্র পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ।সুতরাং বলা যায়, সৌরভ বইটি পড়ে পৃথিবী সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পেয়েছে।